Your address will show here +12 34 56 78
Others

ক”জন চি‌নেন ? কে এই আহমদ ছফা?

একবার খালেদা জিয়া আহমদ ছফাকে ফোন করে দাওয়াত করেছিলেন। তিনি বেগম জিয়াকে বলেছিলেন, যেতে পারি এক শর্তে। আমাকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতে হবে। শেখ হাসিনার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি (শেখ হা‌সিনা) আমাকে রান্না করে খাইয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার রান্না করার সময়ও হয়নি, ছফাও আর যাননি।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছফা র আরেকবার ফোনালাপ হয়েছিল। উপলক্ষ ছিল এনজিও ব্যুরো থেকে ‘বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি’র রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে। ছফা ই বেগম জিয়াকে ফোন করেছিলেন। ফোনটি ধরেছিলেন তাঁর পিএস। ছফা বিনয়ের সঙ্গে পিএ কে বলেছিলেন, ম্যাডামকে কি একটু দেয়া যাবে? আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাই।

পিএ সাহেব জানতে চাইলেন, আপনি কে?

ছফার জবাব, আমি আহমদ ছফা।

পিএ সাহেব ফের জানতে চাইলেন, কোন আহমদ ছফা?

পিএস-এর কথায় ছফা ভয়ানক রকম খেপে গিয়েছিলেন। তিনি রাগলে সচরাচর যে গালটি তাঁর মুখ দিয়ে বা’র হত সেটি বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর তিনি কোন রকম ভূমিকা না করে বললেন, বাংলাদেশে আহমদ ছফা দু’জন আছে নাকি?

ছফা কথা না বাড়িয়ে রিসিভারটি ধপাস করে রেখে দিয়েছিলেন।

পিএ সাহেব ছফার এ অশোভন আচরণের কথা বেগম জিয়াকে জানিয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি। কিছুক্ষণ পরে বেগম জিয়া ফোন করেছিলেন। ছফা র কথার ঝাল তখনও থেকে গিয়েছিল। ফোন পেয়ে তিনি বেগম জিয়াকে বিরক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ম্যাডাম, কী সব অশিক্ষিত পিএ টি এ রাখেন আহমদ ছফার নাম জানে না।
আহমদ ছফা র কথায় বেগম জিয়া হেসে জবাব দিয়েছিলেন, আমি নিজে অশিক্ষিত; শিক্ষিত মানুষ পাব কোথায়। আপনারা কেউ তো এগিয়ে আসছেন না।

*বাংলা একাডেমীর একুশে বইমেলায় কলকাতার বই আসত।আহমদ ছফা এর বিরোধীতায় নামেন। তার বিরোধীতার ফলে কলকাতার বই আসা বন্ধ হয়। ছফা কাজটা করেছিলেন দেশের লেখকদের কল্যানের জন্য কিন্তু এদশেরই লেখক শওকত ওসমান তাকে বাজে লোক বলে মন্তব্য করেন।
এরপর আহমদ ছফা তাকে নিয়ে নিউমার্কেটের বইয়ের দোকানে দোকানে নিয়ে যান।গিয়ে জিজ্ঞেস করেন শওকত ওসমানের কোন বই আছে কিনা। লেখককে কেই চিনতে পারল না।তখন কলকাতার একজন সাধারন মানের লেখকের নাম বলতেই অনেকগুলো বই বের করে দিল। আহমদ ছফা তখন শওকত ওসমানকে বললেন,
“” দেশটা আমরা বাল ছেঁড়ার জন্যে স্বাধীন করেছি?””

* বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একবার আহমদ ছফা‌কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রদূত হওয়ার জন্য। কিন্ত, তিনি (বঙ্গবন্ধু) যখন বললেন শর্ত আছে।
তখন আহমদ ছফা বলেছিলেন, শর্ত ছফার জন্য নয়, আপনি অন্য কাউকে দেখুন। এতে শেখ মুজিবর অত্যান্ত রুষ্ঠ হন। পরবর্তীতে তাকে অনুরোধ করেছিলেন, শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হওয়ার জন্য।
আহমদ ছফা বলেছিলেন সম্ভব নয়।
আমাকে ধারণ করার মতো শক্তি আপনার সরকার বা আপনার প্রশাসনের নেই।

* হুমায়ূন আহমেদ সহ কয়েকজন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কেউ বিয়ে করবেন না।সবাই বিয়ে করেছিলো এক আহমদ ছফা ছাড়া।তিনি চিরকুমার ই ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যে এ পর্যন্ত যত প্রাবন্ধিক, লেখক এবং সাহিত্যিক জন্মগ্রহণ করেছেন তন্মধ্যে আহমদ ছফাই সবচেয়ে সাহসী, বুদ্ধিমান, কুশলী, বহুমুখী, সাধারণ এবং তেজময়। নির্লোভ মননশীলতা এবং সত্যসমৃদ্ধ স্পষ্টবাদিতার জন্য তাঁকে ভয় পেতেন সে সময়ের সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবিরা।

কেউ যদি কয়েক পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ পড়ে কোনো বিষয়ে নিবিড় জ্ঞান অর্জন করতে চান তাহলে তার জন্য সহজ ও বিচক্ষণ উপায় হচ্ছে আহমদ ছফার প্রবন্ধ পাঠ।

যিনি সব সময় সত্য কথা বলতে ভয় পেতেন না এবং সকল অন্যায় এর প্রতিবাদ করতেন । এই সেই ছফা যিনি স্বাধীনবাংলাদেশে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর পরিবারকে গৃহহীন করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

দুঃখ হয় কারন, আহমদ ছফা’র খবর রাখে এমন মানুষ খুব বেশি নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে সমরেশ মজুমদার এর খবর যতজন রাখে তার সিকি ভাগ ও ছফা কে চেনে কিনা সন্দেহ।

২০০১ সালের ২৮ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থনে দাফন।

ওনার একটি উক্তি দিয়ে শেষ করছি-
“ কাউকে জ্ঞান বিতরণের আগে জেনে নিও যে তার মধ্যে সেই জ্ঞানের পিপাসা আছে কি-না। অন্যথায় এ ধরণের জ্ঞান বিতরণ করা হবে এক ধরণের জবরদস্তি। জন্তুর সাথে জবরদস্তি করা যায়, মানুষের সাথে নয়। হিউম্যান উইল রিভল্ট। ”
(সংগৃহীত)

0

ঘরোয়া উপায়

  1. নকল সরিষার তেল সুতির কাপড়ে ঢাললে কালো দাগ পড়ে যা তোলা যায় না। কিন্তু আসল সরিষার তেলে সুতি কাপড়ে কোন দাগ হয় না।
  2. আসল বা খাঁটি সরিষার তেল এর তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ হয় না। কিন্তু নকল সরিষার তেল এ তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে।

ক্যামিকাল টেস্ট ঃ

  1. অল্প কিছু সরিষার তেল টেস্ট টিউবে নিয়ে ৪/৫ ড্রপ নাইট্রিক এসিড যোগ করে মিক্সারটিকে ২/৩ মিনিট ভালো ভাবে নাড়িয়ে গরম করতে হবে। যদি মিক্সারটির রং লাল হয় তাহলে এই তেলে ভেজাল রয়েছে।
  2. ৩ মিলি সরিষার তেলে এর সাথে ২ মিলি Amyl alcohol, ১ মিলি carbon di-sulphide, এবং সামান্য পরিমাণ সালফার একটি টেস্ট টিউবে একসাথে নিয়ে টেস্ট টিউবের মুখ ভালভাবে লাগিয়ে একটি স্প্রিট ল্যাম্প এর এর উপরে ৩ মিনিট ভালভাবে গরম করার পর যদি লাল রং ধারণ করে তাহলে বুজতে হবে তুলার বিচি সরিষার তেলে বিদ্যমান।
0

রাসায়নিক উপাদানের কারণে ফেনা তৈরি হয়। যখন বীজ থেকে তেলের শেষ ফোঁটা নিষ্কাশনের জন্য দ্রাবক নিষ্কাশন ব্যবহার করা হয়, তখন সেই ক্ষতিকারক রাসায়নিকগুলি পরিশোধিত করার পরেও রাসায়নিকের উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়াও, দ্রাবক নিষ্কাশন করার পূর্বে, একটি উচ্চ-তাপমাত্রার যান্ত্রিক নিষ্কাশন প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে তেল আহরণ করা হয়ে থাকে- যার মানে চূড়ান্ত তেল যা বের হয় তার একটি স্বল্প বালুচরিত জীবন থাকে, তাই তেল প্রস্তুতকারীরা সংরক্ষণ করতে পিজারভেটিভ ব্যবহার করে। এটিও ফেনা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
0

FOOD
ভাত বাঙ্গালীদের প্রধান খাদ্য। প্রতিদিন ভাত না খেলে আমাদের খাবারের পূর্ণতা পায় না। ভাত আবার আসছে চাউল থেকে। আজ আমি আপনাদের চাউল সম্পর্কে আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।
নাজির সাইল চাউল আমরা সবাই জানি বা চিনি। কিন্তু এই নাজির সাইল চাউলের অনেক প্রকার ভেদ আছে বা বাজারে এর বিভিন্নতা আছে।
সেগুলি সম্পর্কে আপনাদের বলবো এবং এর বিড়ম্বনার গল্পও আপনাদের জানাবো।
  1. নাজির সাইল
  2. কাটারী নাজির
  3. কাটারীভোগ

প্রধানত বাজারে নাজির নামের চাল নিয়ে ব্যাবসায়ী বিভিন্ন রকম ধোঁকাবাজি করে থাকে।

নাজির সাইল


প্রথমে আসি নাজির সাইল নিয়ে। নাজির সাইল চাল ২ রকম হয়ে থাকে।

মিনিকেট থেকে দেখতে চিকন কিন্তু রান্না করার পর মিনিকেট না নাজিরসাইল কেউ বুজতে পারবে না। এটির দাম মিনিকেট থেকে সামান্য বেশি বা মিনিকেট এর সমান হয়ে থাকে। রান্না করতে সময় বেশি লাগে।

অন্যটি কেউ বলে প্রিমিয়াম নাজিরনাজিরসাইল বা ভালো নাজিরসাইল। জেটি রান্না করার পর চাউলের মান ভালো থাকে। মানে ভাত চিকন হয়ে থাকে। রান্না করতে সময় কম লাগে।

কাটারী নাজির


এই চালটি নাজির সাইল এবং কাটারীভোগ চাউল এর মধ্য পর্যায়ে অবস্থান করে। এই চালে কোন সুগন্ধ থাকে না। কিন্তু ভাত নাজির সাইল থেকে অত্যন্ত সরু হয়ে থাকে।

কিন্তু বাজারে এই কাটারী নাজির চাউল কে বেশিভাগ ব্যাবসায়ী কাটারীভোগ বলে চালিয়ে দেয়। অনেক বড় বড় ব্রান্ড তাদের কাটারী নাজির চাউলের বস্তার গায়ে রীতিমত কাটারী ভোগ লিখে বাজারে বিক্রি করে।

কাটারী ভোগ চাউল


সাধারণ চাউল এর মধ্যে কাটারী ভোগ সব থেকে ভালো বা উন্নত মানের চাউল হয়ে থাকে। এই চাউল অত্যন্ত সরু এবং রানার পর সুগন্ধ ছড়ায়। কিন্তু এটি আবার ২ প্রকার এর হয়

  1. এক সিদ্ধ চাউল যেটা কিনা রান্না করতে সময় কম লাগে এবং সব থেকে সরু, কিন্তু রান্নার পর সুগন্ধ থাকে না।
  2. ২ সিদ্ধ চাউল যেটা এক সিদ্ধ থেকে একটু মোটা কিন্তু দাম একটু বেশি এবং এটার রান্নার পর সুগন্ধ থাকে।

বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা


কাটারীভোগ চাউল নিয়ে আমার এক খারাপ অভিজ্ঞতা আছে। আমি জখন প্রথম ব্যাবসা সুরু করেছিলাম আমার এক client যিনি কিনা প্রতিদিন আমার কাছে থেকে অন্যান্য পণ্য অর্ডার করতেন। তিনি হুট করে কল করে বলেন আপনাদের কাছে কি কাটারীভোগ চাউল হবে ? যেহেতু সন্মানিও ক্রেতা ২ /১ দিন পর পর ই অন্যান্য পণ্য অর্ডার করেন আমি বলি হবে। উনি দাম জিজ্ঞাসা না করেই বলেন ৫ কেজি পাঠিয়ে দিন। আমি বলি ম্যাম ২ ঘণ্টা সময় লাগবে। বল্লেন সমস্যা নাই দেন। আমি ঝড় এর মধ্যে ১০ কিমি গাড়ী চালিয়ে ডিলার এর কাছে গিয়ে ২৫ কেজি চাউল কিনে আনলাম। ডিলার আমাকে চিনে, সে আমাকে দেখে আসল কাটারীভোগ চাউল ই দিলো এবং অন্যান্য e-commerce গুলোতে আমি দাম যাচাই করে দেখলাম থিক দাম ই নিয়েছে। আমি তো খুশিতে নাছতে নাছতে এসে বস্তা খুলে সুন্দর চাউল কে ৫ কেজি প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিলাম বিল করে তাঁর বাসায়। কিছুক্ষণ পর রিতি মতো আমাকে কল করে বল্লেন আপনি ডাকাতের মতো দাম রেখেছেন কেন ? আমি বল্লাম ম্যাম এই চালের দাম তো এইটাই। আমি কিন্তু যে দামে কিনেছি সেই দাম এই সেল করেছি অন্যান্য জায়গায় যা বিক্রি হয় তাঁর থেকে অনেক কমে…। উনি বল্লেন আপনাকে বিশ্বাস করে অর্ডার করেছি আর আপনি দ্বিগুন দাম রাখলেন? আমি বল্লাম ম্যাম পছন্দ না হইলে ডেলিভারী ম্যান কে দিয়ে দেন নিয়ে চলে আসবে। তিনি রিতি মতো ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। এর পর থেকে আমার কাছে আর কোন অর্ডার উনি করেন না আমি ও আমার সন্মানিত ক্রেতা হারালাম। আমার ও মন খারাপ হয়ে গেলো যে এইটা কি হলো ? পরে ২ মাস পর আমি বুজলাম আমার সন্মানিত ক্রেতা উনি যে চাউল নেন বা খান সেটি ছিলো কাটারী নাজির কিন্তু বস্তার গায়ে লেখা ছিলো কাটারী ভোগ। কি আর করা উনি হয়ত সারা জীবন ভেবে যাবেন আমি দাম দিগুণ রেখেছি।

প্রজ্জ্বল রায়
সত্ত্বাধিকারীঃ মুদিদোকানদার
0